ইফতার পার্টিতে তারকামেলা

 কাছাকাছি সময়ে সিনেমার কোন পার্টিতে একসঙ্গে এত তারকার উপস্থিতি অনেকটাই বিরল ঘটনা। পার্টি যদিও ইফতার আয়োজনের, তারপরও তারকার উপস্থিতিতে চলচ্চিত্রের মিলনমেলায় পরিণত হয়েছিল প্রযোজক পরিবেশক সমিতির বৃহস্পতিবারের ইফতার পার্টি। হোটেল সোনারগাঁওয়ে আয়োজিত পার্টিতে সবাইকে চমকে দিয়েই হাজির হয়েছিলেন এক ঝাঁক চলচ্চিত্র তারকা। এদের মধ্যে ছিলেন শাকিব খান, ফেরদৌস, পপি, পূর্ণিমা, আমিন খান, তিন্নি, নিপুন, সাহারা, অমিত হাসান, মারুফ, ইমন, নিরব, সম্রাট, মুনমুনসহ সুপার হিরো-হিরোইনরা।

সিনিয়র তারকাদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন নায়করাজ রাজ্জাক, আলমগীর ও চম্পা। হাজির হয়েছিলেন সাংসদ কবরীও। আর প্রযোজক সমিতির মুখপাত্র মেগাষ্টার উজ্জ্বলতো পুরো আয়োজনের তদারকিতেই ছিলেন ব্যাস্ত। তারকাদের এমন বিরল উপস্থিতিতে উচ্ছাস প্রকাশ করতে দেখা গেল যাদের জন্য এই আয়োজন সেই চলচ্চিত্র পরিবারের লোকজনদেরকেও। সাধারণ প্রযোজকরাও তারকাদের উপস্থিতিতে সন্তোষ প্রকাশ করেন।

শুধু তারকাদের উপস্থিতিই নয়, ইফতার পার্টিতে প্রশাসনের উচ্চ পর্যায়ের কর্মকর্তাদের উপস্থিতিও ছিল চোখে পড়ার মতো। স্বরাষ্ট্র সচিব আবদুস সোবহান শিকদার, তথ্য সচিব ড. কামাল উদ্দিন আহমেদ, সংস্কৃতি সচিব শরফুল আলম, প্রধানমন্ত্রীর প্রেস সচিব আবুল কালাম আজাদ, এফবিসিসিআই�র সভাপতি এ কে আজাদ, এফবিসিসিআই এর সহ-সভাপতি, পিএসসি�র সচিব সহ র�্যাব, ডিএফআই ও পুলিশের বেশ কয়েকজন উচ্চপদস্থ কর্মকর্তারা প্রযোজক সমিতির ইফতার পার্টিতে উপস্থিত হয়েছিলেন। পার্টিস্থল সাজানো হয়েছিলো পাইরেসি বিরোধী নানা বক্তব্য দিয়ে।

ইফতারের পূর্বে সংক্ষিপ্ত বক্তব্য পর্বে বক্তারা চলচ্চিত্রের প্রধান শত্রু পাইরেসির বিরুদ্ধে প্রযোজক সমিতির অভিযান অব্যাহত রাখার কথা ব্যক্ত করেন।

নতুন পরিচয়ে মৌসুমী


নায়িকা, গায়িকা, পরিচালক-এসবের বাইরেও মৌসুমী আরও এক নতুন পরিচয়ে পরিচিত হলেন; ফ্যাশন ডিজাইনার হিসেবে কাজ শুরু করেছেন তিনি। গত ২৩ আগস্ট বিকেলে তিনি বসুন্ধরা সিটিতে অবস্থিত তাঁর লিভাইস-এর শোরুমে নিজের ডিজাইনের পোশাক প্রদর্শন করেন। মৌসুমী বললেন, �নিজের জন্য বিভিন্ন রকম জামাকাপড়ের ডিজাইন করতাম। এভাবেই আস্তে আস্তে নিজে কিছু বিষয় নিয়ে কাজ করেছি। এরপর মহিলাদের জন্য নানা রকম জামাকাপড়ের ডিজাইন করেছি এবং এসব পণ্য লিভাইসে পাওয়া যাবে।� তিনি আরও জানালেন, এখন থেকে তিনি নিয়মিত পোশাকের ডিজাইন করবেন।

প্রসঙ্গত, মৌসুমী অভিনয়ের ব্যস্ততা কমিয়ে দিয়ে এখন সংসারজীবন এবং পোশাক ডিজাইনার হিসেবে ব্যস্ত সময় পার করছেন।

চলচ্চিত্র থেকে তিন্নিকে বাদ দিচ্ছেন সোহান

মোহাম্মদ আওলাদ হোসেন: অশিল্পীসুলভ আচরণ, শিডিউল নিয়ে ঘাপলা, সময়মতো সেটে না আসা সর্বোপরি সমগ্র চলচ্চিত্রকে অবজ্ঞা করার অভিযোগে শুটিং করার পরও ছোট পর্দার বিতর্কিত অভিনেত্রী শ্রাবস্তী দত্ত তিন্নিকে 'সে আমার মন কেড়েছে' ছবি থেকে বাদ দেয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন ছবির পরিচালক সোহানুর রহমান সোহান।

পরপর দুই দিন শুটিংয়ে না আসার কারণে পরিচালক সোহান তিন্নিকে নিয়ে কাজ না করার সিদ্ধান্ত নেন। ছবির প্রযোজক গোলাম মোরশেদ বর্তমানে দেশের বাইরে অবস্থান করছেন। তিনি দেশে ফিরে আসার পর সোহান সংবাদ সম্মেলনের মাধ্যমে তিন্নিকে বাদ দেয়ার কথা ঘোষণা করবেন এবং কারণ ব্যাখ্যা করবেন বলে জানিয়েছেন।

নির্ভরশীল পরিচালক সোহানুর রহমান সোহান আলোচিত প্রযোজনা সংস্থা সন্ধানী কথাচিত্রের ব্যানারে শাকিব খান এবং তিন্নিকে 'সে আমার মন কেড়েছে' নামে একটি ছবির কাজ শুরু করেছিলেন। প্রথম কয়েকদিন ভাল মতো শুটিং করার পর তিন্নির মধ্যে পরিবর্তন চলে আসে। তিনি শুটিং ফাঁকি দিতে শুর্ব করেন। পরিচালক সোহান তার সঙ্গে মুঠোফোনে যোগাযোগ করলে তিন্নির কাছ থেকে কোন সাড়া পাওয়া না গেলেও তিন্নি এসএমএস-এর মাধ্যমে সোহানকে অনেক আপত্তিকর কথা লিখে পাঠান। ৫ লাখ টাকায় ৫ মাস ধরে শুটিং করা সম্ভব নয়- এমন কথাসহ আরও কিছু কথা লেখেন যা ছাপার অযোগ্য। তাছাড়া সিনেমা তার জন্য নয়, তাকে ফোন করার প্রয়োজন নেই- এমনটিও লিখে দিলে সোহান প্রচণ্ড বিরক্ত হয়ে ওঠেন।

তিনি বলেন, যে মেয়ের সিনেমার প্রতি শ্রদ্ধাবোধ নেই, তাকে নিয়ে কাজ করা সম্ভব নয়। আমি সিদ্ধান্ত নিয়ে ফেলেছি এখন প্রযোজক দেশে ফিরে এলেই চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত জানিয়ে দেবো। তিনি বলেন, এতে করে আমাদের আর্থিক ৰতি হলেও তিন্নির মতো অশিল্পীসুলভ মনমানসিকতার মেয়েকে নিয়ে কাজ করা সম্ভব নয়।

ছোট পর্দার বিতর্কিত অভিনেত্রী শ্রাবস্তী দত্ত তিন্নি বরাবরই বিতর্কিতভাবে আলোচিত হওয়ার চেষ্টা করেছেন। বিয়ের আগেই প্রেমিক পরবর্তীতে স্বামী হিল্লোলের সঙ্গে আপত্তিকর সম্পর্কের ভিডিও চিত্র মুঠোফোনে এবং ইন্টারনেটে ছেড়ে দেন। বাথর্বমে নিজের নগ্ন ছবিও ইন্টারনেটে এবং মুঠোফোনে ছেড়ে দিতে বিন্দুমাত্র দ্বিধাবোধ করেননি। তার বিরুদ্ধে রয়েছে বিভিন্ন অভিযোগ। বিয়ের পর স্বামী হিল্লোলের সঙ্গে ঝাগড়াবিবাদ স্বামীর ঘর ছেড়ে চলে যাওয়া আবার ফিরে আসা, অনবরত ঝগড়াবিবাদের কারণে ফ্ল্যাট ছেড়ে দেয়ার নোটিশ থেকে শুরু করে হেন কোন কাজ নেই যা তিন্নি করছেন না।

অভিনেত্রী তিন্নিকে নিয়ে যখন সবাই আশা ছেড়ে দিয়েছেন তখন শাকিব খানের কল্যাণে সোহানুর রহমান সোহান পরিচালিত 'সে আমার মন কেড়েছে' ছবিতে নায়িকা হওয়ার সুযোগ পান। এত বড় একটা সুযোগ পেয়ে তিন্নি রীতিমতো আলোচনায় চলে আসেন। চলচ্চিত্রে সিরিয়াসলি অভিনয় করবেন বলে ঘোষণা দেন। কিন্তু কিছুদিন পরই পাল্টে যেতে থাকেন তিনি। সোহানের মতো নামীদামি পরিচালককেও অবজ্ঞা করতে থাকেন। সর্বশেষ গত দুইদিন ধরে তিন্নি শুটিংয়েই আসেননি। তার মুঠোফোন বন্ধ। নির্বপায় হয়ে সোহান তাকে বাদ দেয়ার সিদ্ধান্ত নেন। এ বিষয়ে তিন্নির বক্তব্য জানার জন্য তার মুঠোফোনে যোগাযোগ করা হলে ফোনটি বন্ধ পাওয়া যায়।

অতিথি চরিত্রে হিমু


ঈদের জন্য নির্মিত একটি নাটকে অতিথি চরিত্রে কাজ করছেন এ সময়ের ব্যস্ত অভিনেত্রী হোমায়রা হিমু। মঙ্গলবার নাটকটির শুটিং সম্পন্ন হয়েছে বলে জানান তিনি। মিজানুর রহমান লাবু পরিচালিত 'সূচনার সমাচার' নামের এ নাটকে একটি বিশেষ চরিত্রে অভিনয় করেছেন হিমু। এ প্রসঙ্গে তিনি বলেন, আসলে হঠাৎ করেই আমার এ নাটকে কাজ করা।

কাজটি করে ভালই লেগেছে। কারণ খুব অল্প সময়ের মধ্যে একটি চমৎকার চরিত্রে কাজ করলাম। উল্লেখ্য, আগামী ঈদকে লক্ষ্য করে হিমু এ পর্যন্ত ১৫টি নাটকে কাজ করেছেন। এসবের মধ্যে উল্লেখযোগ্য নাটকগুলো হচ্ছে ভাঙা মেলা, ব্যাচেলর ভাড়াটিয়া, ছায়া সঙ্গী, স্বপ্নে দেখা স্বপ্ন, আজব টিভি, ক্লিক ক্লিক, এই ঈদে বাবা নেই ইত্যাদি। হিমু বলেন, সবক�টি নাটক প্রচার নাও হতে পারে। তবে আমি চাই ভাল কাজগুলো প্রচার হোক। কারণ ঈদের ছুটিতে দর্শক নাটক উপভোগ করেন সময় নিয়ে। তারাই তো আমাদের কাজের মূল্যায়ন করেন।

মিডিয়ায় নগ্নতার আগ্রাসন

নগ্নতার আগ্রাসন ব্যাপকভাবে মাথাচাড়া দিয়ে উঠেছে। নাটকের সংলাপে অশ্লীলতার ছড়াছড়ির পর এবার তথাকথিত তারকা শিল্পীদের ব্যক্তিগত স্বেচ্ছাচারিতা দেশীয় মিডিয়ার মাথা লজ্জায় নত করে দিচ্ছে। কতিপয় অভিনেত্রীকে তারকা হওয়ার সুবাদে স্বেচ্ছাচারিতার চরম পর্যায়ে চলে যেতে দেখা যাচ্ছে। প্রেমিক কিংবা স্বামীর সঙ্গে বৈধ-অবৈধ সম্পর্কের দৃশ্য স্বেচ্ছায় মোবাইল কিংবা ক্যামেরায় ধারণ করে কখনও নিজেরা কখনও আবার ব্যক্তিস্বার্থ চরিতার্থ করার জন্য অভিনেত্রীর ব্যর্থ প্রেমিক সেগুলো ইন্টারনেটের মাধ্যমে সারা বিশ্বে ছড়িয়ে দিচ্ছে। এর ফলে সেই অভিনেত্রীর যত না ক্ষতি হচ্ছে তার চেয়ে বেশি ক্ষতি হচ্ছে মিডিয়ার। প্রতিষ্ঠা পাওয়ার জন্য এক সময় মিডিয়ায় মেয়েরা ফাঁদে পা দিয়েছেন এটা সত্য। আজকের অনেক বড় বড় অভিনেত্রী স্বেচ্ছায় হোক কিংবা বাধ্য হয়ে হোক এমনটি করেছেন। তবে ওই সময় ইন্টারনেট ছিল না। মোবাইল ছিল না। ওই সব দৃশ্য যারা ধারণ করতেন তাদের কাছেই থাকতো। দু’একটি অশ্লীল ম্যাগাজিন ছাপতো হয়তো।

কিন্তু এখনকার অবস্থা অন্যরকম। এখন যা কিছুই ইন্টারনেটের মাধ্যমে দ্রুত ছড়িয়ে পড়ে, মানুষের মোবাইলে মোবাইলে ঘুরে-যা দেখে সবাই ছিছি ছিছি করে। আর ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন হয় সমগ্র মিডিয়ার। সম্প্রতি দুই জনপ্রিয় অভিনেত্রীর এহেন কর্মকাণ্ডে সমগ্র মিডিয়া বিব্রত। লজ্জায় মুখ তুলতে পারছেন না কেউ। কাউকে দোষও দিতে পারছেন না। কারণ ওইসব ভিডিওচিত্রে দেখা যাচ্ছে টিভির জনপ্রিয় নায়িকারা স্বেচ্ছায় এবং আনন্দচিত্তে নগ্ন দৃশ্যে অভিনয় করেছেন। হয়তো তাদের স্বামী কিংবা প্রেমিকের প্রতি অগাধ বিশ্বাস ছিল। নয়তো অন্য রকম প্রেম করার সাধ জেগেছিল যা দেখে সবাই মুগ্ধ হবেন। তা না হলে স্বজ্ঞানে এসব কেউ করতে পারে সেটা ভাবতেই বিস্মিত হতে হয়। এখন এসব নিয়ে শুধু দেশীয় মিডিয়ায় নয়, বহির্বিশ্বেও চলছে ব্যাপক আলোচনা। মিডিয়ার কর্তাব্যক্তিদের মাথার ঘাম পায়ে পড়ছে। এর একটা শক্ত প্রতিকারের চিন্তা সবার মাথায় ঘুরপাক খাচ্ছে।

কেউ কেউ এসব নির্লজ্জ অভিনেত্রী মিডিয়া থেকে নিষিদ্ধ করা এবং তাদের সঙ্গীদের আইনের আওতায় আনার চিন্তা-ভাবনা করছেন। যারা এসব নগ্ন দৃশ্য ইন্টারনেটের মাধ্যমে ছড়ানোর দায়িত্ব পালন করছে তাদেরও আইনের আওতায় আনা জরুরি বলে মনে করছেন। সেই সঙ্গে শিল্পীদের সব বিষয়ে অতিরিক্ত সতর্কতা অবলম্বনের পরামর্শ দিচ্ছেন। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক টেলিভিশন বোদ্ধা বলেছেন, টিভি মিডিয়ার কর্তা ব্যক্তিদের সম্মিলিতভাবে এর প্রতিকারে মাঠে নামা উচিত। একজন সাধারণ মেয়ে কিংবা ছেলে যখন শিল্পী হয়ে যাবে তখন সে শিল্পী সমাজের গুরুত্বপূর্ণ একজন প্রতিনিধি। শিল্পের প্রতি তার দায়বদ্ধতা থাকা উচিত। ব্যক্তি জীবনে সে যেই হোক না কেন যতদিন তার শিল্পী পরিচয় থাকবে ততদিন তাকে নিয়ম কানুন মেনে সতর্কতার সঙ্গে চলতে হবে। ব্যক্তি জীবনকে ব্যক্তিগত পর্যায়েই রাখতে হবে। অন্যথায় তাকে মিডিয়া থেকে বিদায় নিতে হবে। ওইসব শিল্পীর অপকর্মের দায়ভার শিল্পী সমাজ এবং মিডিয়া নেবে না।